Author name: nauroz

Blog

মাসুদ রানা : ঘোস্ট রাইটার

রানার বুকের মধ্যে কেন জানি হু হু করা অনুভূতি হচ্ছে। মনের পর্দায় চকিতে এক ঝলক ভেসে উঠল সোহেল, সোহানা, রূপা, গিলটি মিয়া, রাঙার মা, এমনকি কবির চৌধুরীর চেহারাও।

Poem

তাহারা পুরুষ জাতি

জগৎজুড়িয়া এক জাতি আছে, তাহারা পুরুষ জাতি
ভালোবাসিয়াই আজও তাহাদের কাটিছে দিবস-রাতি।
মার্কিনিদের একটি করিয়া বউ আর বান্ধবী

বান্ধবীকেই বেশি ভালোবাসে, ইহা তাহাদের হবি।

পত্নীও এক, প্রেয়সীও এক– নিপাট ইউরোপীয়

দুইয়ের মধ্যে পত্নী কেবল তাহার নিকট প্রিয়।

Poem

রাজা-রানি ও বালক

এক যে ছিল রাজা, তাহার চারটি ছিল রানি
এই কাহিনি কম বা বেশি আমরা সকলে জানি।
ছোট্ট বালক গল্প শুনিয়া বায়না ধরিল শেষে
‘আমিও চারটি বিবাহ করিব, গল্প রাজার বেশে
একটি রানি রান্না করিবে, একটি গুছাবে ঘর
একটি রানি হাত-পা টিপিবে সকাল-সন্ধ্যাভর
অন্য রানিটি গল্প শোনাবে, কপালেতে দেবে চুম।’
মাতা শুধালেন, ‘কোন রানি ল’য়ে রাত্তিরে দিবি ঘুম?’
‘তোমার কোলেই শোবো মা রাত্রে’ পুত্র কহিল হাসি
শুনিয়া মাতার চিত্ত জুড়িল, নয়ন জলেতে ভাসি
পুত্র-স্নেহেতে আকুল হইয়া মুছিয়া সে আঁখিজল
শুধালেন, ‘তবে রানিগণ শোবে কাহার সঙ্গে বল?’
শিশুর জবাব, ‘বাবাই ঘুমাবে, আর আছে বল গো কে?’
চিত্তানন্দে এই বেলা পানি আসিল পিতার চোখে।

Blog

লেখকের ইন্টারভিউ

আমি দুর্বল গলায় বললাম, ‘শুধু নিজের নামটা লিখি? বইয়ের নামটা থাক। বইটা আসলে খুব বেশি পদের কিছু না। ফালতু ধরনের বই। এটা নিয়ে কথা বললে লোকে হাসাহাসি করবে।’

Blog

দূর-সম্পর্কের বান্ধবীরা

কিছুক্ষণ পরেই আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করে দেখি, আসলে নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে কথাবার্তা হচ্ছে না। প্রত্যেকেই একসঙ্গে নানা বিষয়ে কথা বলছে। বিষয়বস্তু বা বক্তা বা শ্রোতা কোনোটাই নির্দিষ্ট নয়।

Poem

ইস্তিরি

দু-কানে ভীষণ দগদগে পোড়া ক্ষত ল’য়ে এক রোগী
চেম্বারে আসি বলিল, ‘বাঁচান! আমি যে ভুক্তভোগী।’
সবিস্ময়ে ডাক্তার কন, ‘কেমনে পুড়িল কান?
সবিস্তারে সেই কথা আগে বিশদ বলিয়া যান।’
রোগী নিরুপায় কহিল, ‘জনাব, কাহিনিটি বিদারক
বলিতেছি তবে কেমন করিয়া দগ্ধ হইল ত্বক।
বাড়িতে বসিয়া করিতেছিলাম কাপড়সমূহ ইস্ত্রি
হঠাৎ তখন ফোন করিয়াছে ইলেকট্রিকের মিস্ত্রি।
গরম ইস্ত্রি মনের ভুলেতে ঠেকায়েছি ডান কানে
কী যে ব্যথা! আহা! যার পুড়িয়াছে, জানে সেই শুধু জানে!’
ডাক্তার কন, ‘বুঝিলাম, ইহা ঘটিয়াছে ডান কানে
কিন্তু কীভাবে বামটি পুড়িল? ভেজালটা কোনখানে?’
জবাব আসিল কাতরকণ্ঠে, গলাতে হতাশ টোন
‘মিস্ত্রি ব্যাটা তো একটু পরেই ফের করিয়াছে ফোন।’

Blog

একটি প্রস্তুতির গল্প

আমি যে টেলিভিশন স্টেশনে কাজ করতাম, সেখানে একবার পয়লা বৈশাখের আগে-আগে আমাকে ‘বৈশাখি আনন্দ মেলা’ ধরনের একটা বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপকের সহযোগী হিসেবে কাজ করার জন্যে বলা হলো।

Blog

অপদার্থ ব্যক্তির বাজারসদাই

বাজার-সদাই করার কাজে আমার অদক্ষতা, অপদার্থতা ও অজ্ঞানতা সীমাহীন পর্যায়ের। আমার যখন অতি অল্প বয়স, তখনই বাসার লোকজনের কাছে এ বৈশিষ্ট্যটি ধরা পড়ে। ফলে অনেক দিন পর্যন্ত আমাকে বাজারে যেতে হয়নি।

Blog

জার্নি বাই অ্যারোপ্লেন

এমন না যে লোকজন ইচ্ছা করলেই উড়োজাহাজের ককপিটে লাফ দিয়ে উঠে বসতে পারে কিংবা ককপিটের প্রবেশাধিকার সবার জন্যে উন্মুক্ত; কিন্তু বাংলাদেশ বিমানে অতি আপনজন প্রকৃতির প্রভাবশালী পাইলট বন্ধুবান্ধব থাকায়, আমাদের মধ্যে কারও কারও আগে থেকেই বোয়িং অথবা ফকার অথবা এয়ারবাসের ককপিটে চড়ে আকাশ-ভ্রমণের সুযোগ হয়েছিল।

Blog

রুদ্ধশ্বাস সূর্য উৎসব

সারেংয়ের চেহারা ডাকাত দলের সর্দারের মতো। সেও কথাবার্তা প্রায় বলে না বললেই চলে। মাঝেমধ্যে চোখ সরু করে ঠান্ডা দৃষ্টিতে তাকায়। দেখলে বুক শুকিয়ে যায়। তিনজনের মধ্যে একমাত্র তাকেই মনে হলো জাহাজ চালানোর বিষয়ে পরিপূর্ণ মনোযোগ আছে। মুখচোখ পাথর বানিয়ে সে সারাক্ষণ স্থির-দৃষ্টিতে পানির দিকে তাকিয়ে থাকে। কেউ এসে ভালোমন্দ প্রশ্ন করলেও, ঠান্ডা গলায় তার জবাব দিয়ে যায়। কিন্তু পানি থেকে একবারের জন্যে চোখ সরায় না।

Scroll to Top