Disclaimer: These poems are in Bangla. Please use your browser’s translation feature if needed. Some nuances, cultural references, or language-specific humor may not translate perfectly. I apologize for that. Happy reading!
- All Posts
- Blog
- Opinion
- Poem

তাহারা পুরুষ জাতি
নওরোজ ইমতিয়াজ
জগৎজুড়িয়া এক জাতি আছে, তাহারা পুরুষ জাতি
ভালোবাসিয়াই আজও তাহাদের কাটিছে দিবস-রাতি।
মার্কিনিদের একটি করিয়া বউ আর বান্ধবী
বান্ধবীকেই বেশি ভালোবাসে, ইহা তাহাদের হবি।
পত্নীও এক, প্রেয়সীও এক– নিপাট ইউরোপীয়
দুইয়ের মধ্যে পত্নী কেবল তাহার নিকট প্রিয়।
দয়িতা এবং গোলাম-বাঁদি, গাহি সাম্যের গান
সকলেরে সম ভালোবাসে দেখো ওই যে আফ্রিকান!
প্রণয়িনী নাকি বউ বেশি বড়, বিতর্কে নাই কিনারা
নয় কেহ নয়, নিজেরেই শুধু ভালোবাসে ওই চীনারা।
আরবরা পায় চারখানা বিবি, বান্ধবী চারিপাশে
তাহারা তথাপি মূলত নিজের উটকেই ভালোবাসে।
গিন্নি আছেন, তবু যে গোপনে বান্ধবীদের রাখে
দিনমান শেষে ভালোবাসে বীর বাঙালি তাহার মাকে।

রাজা-রানি ও বালক
নওরোজ ইমতিয়াজ
এক যে ছিল রাজা, তাহার চারটি ছিল রানি
এই কাহিনি কম বা বেশি আমরা সকলে জানি।
ছোট্ট বালক গল্প শুনিয়া বায়না ধরিল শেষে
‘আমিও চারটি বিবাহ করিব, গল্প রাজার বেশে
একটি রানি রান্না করিবে, একটি গুছাবে ঘর
একটি রানি হাত-পা টিপিবে সকাল-সন্ধ্যাভর
অন্য রানিটি গল্প শোনাবে, কপালেতে দেবে চুম।'
মাতা শুধালেন, ‘কোন রানি ল’য়ে রাত্তিরে দিবি ঘুম?'
‘তোমার কোলেই শোবো মা রাত্রে’ পুত্র কহিল হাসি
শুনিয়া মাতার চিত্ত জুড়িল, নয়ন জলেতে ভাসি
পুত্র-স্নেহেতে আকুল হইয়া মুছিয়া সে আঁখিজল
শুধালেন, ‘তবে রানিগণ শোবে কাহার সঙ্গে বল?'
শিশুর জবাব, ‘বাবাই ঘুমাবে, আর আছে বল গো কে?'
চিত্তানন্দে এই বেলা পানি আসিল পিতার চোখে।

ইস্তিরি
নওরোজ ইমতিয়াজ
দু-কানে ভীষণ দগদগে পোড়া ক্ষত ল’য়ে এক রোগী
চেম্বারে আসি বলিল, ‘বাঁচান! আমি যে ভুক্তভোগী।’
সবিস্ময়ে ডাক্তার কন, ‘কেমনে পুড়িল কান?
সবিস্তারে সেই কথা আগে বিশদ বলিয়া যান।’
রোগী নিরুপায় কহিল, ‘জনাব, কাহিনিটি বিদারক
বলিতেছি তবে কেমন করিয়া দগ্ধ হইল ত্বক।
বাড়িতে বসিয়া করিতেছিলাম কাপড়সমূহ ইস্ত্রি
হঠাৎ তখন ফোন করিয়াছে ইলেকট্রিকের মিস্ত্রি।
গরম ইস্ত্রি মনের ভুলেতে ঠেকায়েছি ডান কানে
কী যে ব্যথা! আহা! যার পুড়িয়াছে, জানে সেই শুধু জানে!’
ডাক্তার কন, ‘বুঝিলাম, ইহা ঘটিয়াছে ডান কানে
কিন্তু কীভাবে বামটি পুড়িল? ভেজালটা কোনখানে?’
জবাব আসিল কাতরকণ্ঠে, গলাতে হতাশ টোন
‘মিস্ত্রি ব্যাটা তো একটু পরেই ফের করিয়াছে ফোন।’